নাটোরে লালপুরের রাজনীতিতে আবারও উঠে এসেছে ফিরোজ আল হক ভুঁইয়ার নাম। লালপুরের প্রতিটি রাজনৈতিক সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ফিরোজ আল হক ভুঁইয়ার উপস্থিতি কিছু মানুষের মধ্যে গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এমপি ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিদের সাথে তার প্রতিনিয়ত উঠাবসার কারণে এই গুঞ্জন টা ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে। প্রকাশ্যে ফিরোজ ইস্যু নিয়ে কেউ তেমন মাথা ব্যাথা না দেখালেও,পরিচয় আড়াল করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমপি কে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু লিখা ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এ থেকে লালপুরের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে কি আবার ফিরোজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে বকুল এমপি ?

এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল এর ঘনিষ্ঠ এক ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজের নতুনভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন- “কে রাজনীতি করছে, কে করছে না, এটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নাই। তবে কেউ অপ রাজনীতি করতে চাইলে, তাকে আমরা ছাড় দিব না। যদি কেউ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে চায়, তাকে আওয়ামীলীগ করতে বাধা দেওয়ার দায়িত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে দেইনি। আর শহিদুল ইসলাম বকুল এমপি হওয়ার পর থেকে গত ১৮ মাসে গোপালপুরের রাজনীতি পৌর ছাত্রলীগ সক্রিয়ভাবে করে আসছে। এর মধ্যেই পৌর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গোপালপুর রেলগেটে পরিবহনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। রেল স্টেশনে টিসিবির তেল চুরি ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ চুরি ছাত্রলীগই ধরেছে। গত উপজেলা নির্বাচনের পূর্বেও নৌকার পক্ষে একাধিক মিছিল ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কেউ-ই করেনি বা অন্য কোন নেতাকে ছাত্রলীগ তখন পাশেও পাইনি। বরং একটা বেপার স্পষ্ট, তা হচ্ছে- সর্বশেষ উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটি গঠন হওয়ারও অনেক পরে ফিরোজকে সেই কমিটির সদস্য পদ দিয়েছে সাবেক এমপি এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ফিরোজকে গোপালপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীও করেছিলেন উনারায়। উনারায় ফিরোজকে দলিল লেখক সমিতিতে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। সাবেক এমপির সময়ই ফিরোজ সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে। বর্তমান এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল ক্ষমতায় আসার পরই ফিরোজ দলিল লেখক সমিতিতে তার জায়গা হারিয়েছে। বর্তমান এমপির সময়ই ফিরোজকে সকল রাজনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় আড়াল করে ফিরোজকে ইস্যু বানিয়ে বর্তমান এমপির সমালোচনা করছে,তারা রাজনীতির মাঠে নাই কেন ? মিটিং মিছিলে তাদের অবস্থান কোথায় ? উপজেলা নির্বাচনের সময় কোথায় ছিল তারা ? শেষ কবে তারা নৌকার পক্ষে একটা শ্লোগান ধরেছে ? এ পর্যন্ত তারা কয়টা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে ? তারা কেন পরিচয় আড়াল করে রাখে ?
এমনটাও তো হতে পারে, একটা ইস্যু তৈরি করে এমপির সমালোচনা করার জন্য পরিচয় গোপন রেখে আড়াল থেকে তারায় ফিরোজকে এখনো নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। আবার আগের মত ফিরোজকে হয়তো আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিধায় ফিরোজের ইস্যু তৈরি করে এমপির সমালোচনা করছে তারা, এমনটা হওয়াও অস্বাভাবিক না। ফেইক আইডির গুজব রুখতে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন একের পর এক আইসিটি সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করছে, একদল কুচক্রী মহল তখনো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচারণ করে নিজেদের সুবিধার্থে সেই আইন ভঙ্গ করছে। এদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”

ছবিঃ জামিরুল ইসলাম, আমজাদ, বাবুল আক্তার, সাইফুল ইসলা, ফিরোজ আল হক ভুঁইয়া (বাম থেকে)

উল্লেখ্য গত ২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট ফিরোজ আল হক ভুঁইয়া লালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু ও সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলীর হাত ধরে সাবেক এমপি এ্যাড. আবুল কালাম আজদের কাছে এসে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এর পূর্ব পর্যন্ত ফিরোজ গোপালপুর পৌর যুব দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here