বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার ডিয়াগো ম্যারাডোনা আজ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাস ভবন তিগ্রে-তে মারা গিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে ।

মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন পূর্বে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এক মাস আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রপাচার করে জমে থাকা রক্ত অপসারণ করা হয়। সেসময় তিনি মাদকাসক্তি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। এর আগেও মাদকাসক্তির কারণে একাধিকবার তাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসার কারণে তাকে টুর্ণামেন্ট থেকে বাদ দেওয়াও হয়। গত মাসেই মাদকাসক্ত থেকে পুনর্বাসনের জন্য তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আজ তিনি মারা যান ।

ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা ছিলেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচ। এযাবৎ কাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয় তাকে। ১৯৮৬ সালে বলতে গেলে একাই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন তিনি। ফুটবল দুনিয়া আর্জেন্টাইন ম্যারাডোনা ও ব্রাজিলিয়ান পেলে, দুই ভাগে বিভক্ত। ফিফা ডট কমের ভোটে পেলের পাশাপাশি শত বছরের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ম্যারাডোনার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এপর্যন্ত একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনিই দুইবার সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি এর রেকর্ড করেছেন ম্যারাডোনা। প্রায় মধ্য মাঠ থেকে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের পাঁচ জন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে দেওয়া গোলটিকে ফিফা থেকে শত বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। তাছাড়া একই ম্যাচে সবার অলক্ষ্যে হাত দিয়ে করা অন্য আর একটি গোলের জন্যও বিখ্যাত তিনি। হাত দিয়ে করা এই গোলের পর থেকেই সে হাতকে ‘হ্যান্ড অফ গড’ এবং ম্যারাডোনাকে ‘গড অফ ফুটবল’ বলা হয়ে থাকে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন। তাছাড়া গোটা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য ভক্ত তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here