আজ শ্রমিক নেতা স্বর্গীয় সুশীল কুমার পাল- এর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ ও কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা, সুগার ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাকশাল (শ্রমিক ফ্রন্ট)কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, বাংলাদেশের খ্যাতি সম্পন্ন এবং বহির্বিশ্বে প্রশংসিত শ্রমিক নেতা স্বর্গীয় সুশীল কুমার পাল- এর আজ ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ পৌরমহাশ্মশানে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতিবেদিতে পুষ্প অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয় এবং মধ্যাহ্নে গোপালপুর ঠাকুরবাড়ী শ্রীশ্রী লক্ষ্মী নারায়ন সর্বজনীন কেন্দ্রীয় পৌর মন্দিরে স্বর্গীয় আত্মার শান্তি কামনার্থে শ্রীমদ্ভগবতগীতা পাঠ সহ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে ।

তাঁর সংগ্রামী রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন থেকে জানা যায় :

দক্ষিণ ভারত থেকে আগত মাড়ওয়ারী ডালমিয়া মালিকানাধীন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আন্দোলন এবং শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার দায়ে চাকুরি হারানো নিবেদিত প্রাণ এক শ্রমিক নেতা।১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করতে হরতাল অবরোধের মাধ্যমে তিনি তাঁর শ্রমিক সংগঠনতে পুরোপুরি নিয়োজিত রেখেছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শ্রমিক সমাজের উন্নয়নের স্বার্থে বেশ কিছু সংগঠন প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা দান করেন। তন্মধ্যে-
(১) রেশমশিল্প এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী ,
(২) আজিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন,রাজশাহী
(৩) ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়ন,ঈশ্বরদী, পাবনা
(৪) এডরুক এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশন, পাবনা

তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার কারণে তিনি নিম্নে উল্লেখিত উল্লেখযোগ্য সম্মানজনক পদ অজ©ন করেন-
(১) ১৯৫৩ সালে ইস্ট পাকিস্তান সুগার মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের Branch Secretary,
(২) ১৯৫৭ সালে ইস্ট পাকিস্তান ফেডারেশন অব লেবার-এর Executive member,
(৩) ১৯৬৪ সালে ইস্ট পাকিস্তান লেবার এ্যাডভাইজারি বোর্ডের মেম্বার,
(৪) ১৯৬৮ সালে এবং পুনরায় ১৯৭৭ সালে রাজশাহী লেবার কোর্টের মেম্বার,
(৫) ১৯৭২ সালে জাতীয় শ্রমিকলীগের সদস্যপদ লাভ এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট,
(৬) ১৯৭৫ সালে শ্রমিকফ্রন্ট থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ বাকশাল ‘ এর কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার ।

তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবনে তিনি বেশ কয়েকবার কারাভোগ করেন-
(১) ১৯৬৫ সালে ( পাক-ভারত যুদ্ধ চলাকালে ৬ মাস)
(২) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৭৬-১৯৭৮ (২২ মাস)
(৩) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৩ সালের শেষে ( ৪ মাস ) ।
তিনি I.L.O (আন্তর্জাতিক শ্রম ও সংস্থা)- এর আহ্বানে সাবেক সোভিয়ত ইউনিয়ন ও আমেরিকাসহ ইউরোপ আমেরিকার কয়েকটি দেশে আয়োজিত Conference এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here