নাটোরে লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের নান্দ রায়পুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, লালপুর উপজেলার ০৭ নং ওয়ালিয়া ইউনিয়ন ও ১০ নং কদিমচিলান ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমান উল্লাহ্ গত ১৫ জুলাই, ২০২০ ইং তারিখ বুধবার দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় মারা যান। মৃত্যুর পর তার পরিবার সহ এলাকাবাসীরা মৃতদেহ দাফন কাফনের জন্য স্থানীয় নিজ সমাজের কবরস্থানে কবর দিতে নিয়ে গেলে একই ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও তার সাথে থাকা লোকজনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন মৃতের ছেলে মো. আমিরুল ইসলাম বাবু। অভিযোগকারী বাবুর সাথে কথা বলে জানা যায়- মৃত ব্যক্তি উল্লিখিত সমাজের অন্তর্ভুক্ত না, এমন অভিযোগ দেখিয়ে রফিকুল তার বাবার লাশ তাদের সামাজিক কবরস্থানে কবর দিতে বাধা দেয়। সেসময় মৃত ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জানার পরেও শেষ পর্যন্ত সেখানে লাশ দাফন করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৃত আমান উল্লাহ্-র ছেলে বাবু ও রফিকুল উভয়েই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকলেও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব ও মত পার্থক্য ছিল। এছাড়া মৃতের ছেলে বাবু নিজেও এই কবরস্থানের সামাজিকভাবে স্বীকৃত সাধারণ সম্পাদক। বাবু জানান, কবরস্থানের সভাপতি জাহাঙ্গীরও লাশটি এই কবরস্থানে কবর দেওয়ার কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেখানে লাশ দাফনে ব্যার্থ হয়ে অন্য সমাজের লোকজনের সার্বিক সহায়তায় স্থানীয় পাশের একটি কবরস্থানে উক্ত লাশ দাফন করা হয় বলে লিখিতভাবে জানান বাবু।

একজন মুক্তিযোদ্ধা নিজের জীবনকে বাজি রেখে যুদ্ধ করে জন্ম দিয়েছে এই দেশ। সেদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের সর্বোচ্চ সন্মানিত ব্যক্তিত্ব। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ সন্মান দিয়েছেন। সে জায়গা থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পরে মৃতদেহ নিয়ে টানাটানি হবে, এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here