বিশ্বব্যাপী করোনার বিরূপ প্রভাবে প্রতিটি দেশের অর্থনীতির চাকা যখন প্রায় বিকল হয়ে আছে, তার মধ্যেই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে “হোম ডেলিভারি” ব্যাবসা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আস্থা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে ক্রেতার বাড়ি পর্যন্ত পণ্য পৌঁছে দিয়ে উপার্জন করার পদ্ধতি। আর এই পদ্ধতিতে ব্যাবসা করতে নিজের কোনও দোকান না থাকলেও চলে বিধায় বেশ অল্প পুঁজিতেই যে কেউ ব্যাবসাটি করতে পারে। এক্ষেত্রে অন্যের দোকানকে কাজে লাগিয়ে যেমন যে কেউ পণ্য বিক্রি করতে পারে, আবার ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটর বা সরাসরি কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নিয়েও তা প্রি-অর্ডারে ক্রেতার বাড়িতে ক্যাশ অন ডেলিভারি দিতে পারে। ক্রেতার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে পোশাক, আসবাবপত্র, বাড়ি, গাড়ি, এমনকি দুষ্প্রাপ্য অনেক দ্রব্য হোম ডেলিভারি দিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন এমন অনেকেই আছেন। শুরুর দিকে শহর কেন্দ্রিক ভাবে গড়ে উঠলেও, খুব অল্প দিনেই ব্যাবসাটি স্থানীয় পর্যায়েও ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী যেকোন পণ্য নির্দিষ্ট লভ্যাংশে তার বাড়িতে ডেলিভারি দেওয়ায়াটাই মূলত এই ব্যাবসার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে মুখ্য ব্যাপার হচ্ছে ব্যাবসার প্রচার। এই প্রচারের জন্য এলাকা অনুযায়ী একেক জন একেকটা মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অনলাইন বা ফেসবুকিং মাধ্যম। তাছাড়া হ্যান্ডবিল, পোস্টার, স্টিকার বা মাইকিং এর মাধ্যমেও স্বল্প পরিসরে পণ্যের প্রচার করা যায়। আর বৃহৎ পরিসরে ব্যাবসা করতে চাইলে সবচেয়ে উপযোগী হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা নিজের একটা ওয়েবসাইট। তবে হোম ডেলিভারি ব্যাবসায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মোবাইল ফোনের। কারণ বিক্রেতার সাথে ক্রেতার যোগাযোগের সহজলভ্য মাধ্যম হচ্ছে ফোন। স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য ডেলিভারির জন্য সাইকেল, মটর সাইকেল, রিক্সা, ভ্যান বা সিএনজি চালিত যানবাহন ব্যবহার করা হলেও চাইলেই কুরিয়ার বা এস.এ পরিবহনে পণ্য দেশের যেকোন প্রান্তে পাঠানো যায়।

আর করোনার কারণে এখন যেহেতু বেশিরভাগ মানুষই ঘর থেকে বাইরে আসতে চাচ্ছে না, তাই অনেকের মধ্যেই ঘরে বসে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার প্রবণতাও কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ফলস্বরূপ, করোনার মধ্যে বসে না থেকে সামাজিক সচেতনতা মেনে তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ ঝুঁকছে হোম ডেলিভারি ব্যাবসার দিকে। হয়তো এই হোম ডেলিভারির মাধ্যমেই পরিবর্তন হতে যাচ্ছে সারা বিশ্বে দীর্ঘকাল যাবৎ চলে আসা বাজার ব্যবস্থার। হয়তো খুব অচিরেই বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত হবে একটা ভার্চুয়াল বাজার ব্যবস্থার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here